January 6, 2014

রোপা আমনে বিআর ১১ এর বিকল্প উফশী জাত ব্রি ধান ৪৯



রোপা আমনে বিআর ১১ এর বিকল্প উফশী জাত ব্রি ধান ৪৯ 




জাত উদ্ভাবন 
ব্রি ধান৪৯ এর কৌলিক সারি নং-বিআর৬৫৯২-৪-৬-৪এ কৌলিক সারি ব্রি উদ্ভাবিত অগ্রবর্তী সারি বিআর৪৯৬২ -১২-৪-১ এর সাথে আইআর ৩৩৩৮০-৭-২-১-৩ এর সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিতকৌলিক সারিটি প্রজনন প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোপা আমন মৌসুমে বিআর১১ জাতের চাষাবাদ উপযোগী এলাকায় ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক হওয়ায় উফশীজাত হিসাবে ছাড়করণের জন্য চুড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়২০০৮ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড এই অগ্রবর্তী কৌলিক সারিটিকে দেশের বিআর১১ জাতের চাষাবাদ উপযোগী এলাকায় উচ্চ ফলনশীল জাত হিসাবে ব্রি ধান ৪৯নামে সারাদেশে রোপা আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দেয়
বৈশিষ্ট্য 

  • অঙ্গজ অবস্থায় গাছের আকার প্রায় বিআর১১ জাতের মত, তবে বিআর১১ এর চেয়ে খাটো
  • পূর্ণ বয়স্ক গাছের উচ্চতা ১০০-১০৪ সেন্টিমিটার
  • এ জাতের জীবনকাল বিআর১১ এবং ভারতীয় স্বর্ণা জাতের চেয়ে ৭-১০ দিন আগাম অর্থা ১৩২-১৩৫ দিন
  • ধানের শীষে দানাগুলো খুব ঘনভাবে সজ্জিত থাকেপাকা ধানের রং খড়ের মত
  • ধানের দানা বিআর১১ এবং ব্রি ধান৩২ জাতের ধানের চেয়ে চিকনরান্না করা ভাত ঝরঝরে এবং খেতে সুস্বাদু
  • ব্রি ধান ৪৯ উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ৫.০ টন থেকে ৫.৫ টন পর্যন্ত ফলন দেয়
বিশেষগুণ 
  • ব্রি ধান৪৯ ঢলে পড়া প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন
  • ফুল আসার সময়কাল ৫-৭ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায় বলে বিআর১১ এর চেয়ে সবগুলো শিষ একসাথে পাকে
  • ব্রি ধান৪৯ এর জীবনকাল ব্রআর১১ এবং স্বর্ণার চেয়ে কম বলে দেশের উত্তরাঞ্চলে গম, আলু ও রবিশস্যের চাষ এবং দক্ষিণাঞ্চলে আগাম বোরো চাষ করা যাবেএজন্য আষাঢ় মাসের ১ তারিখে বীজ বপন করে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফসল কাটা যাবে
  • ব্রি ধান৪৯ এর চালের আকৃতি দেশে জনপ্রিয় সনাতন সরু চালের জাত নাইজারশাইলের মতফলে বাজার মূল্য বেশি পাওয়া যাবে
আঞ্চলিকউপযোগিতা 
দেশের প্রায় সকল রোপা আমন অঞ্চল বিশেষ করে বিআর১১ জাতের চাষাবাদ উপযোগী এলাকায় চাষ করে জাতটির অধিক ফলন পাওয়া যাবে
চাষউপযোগীজমি 
বেলে দোআঁশ, এঁটেল দোআঁশ, উঁচু এবং মাঝারি উঁচু জমি ব্রি ধান৪৯ চাষের জন্য উপযুক্তনিচু জমি অর্থা যেখানে পানি জমে থাকে, সেখান থেকে পানি সরে যাবার পর এই ধান রোপণ করা যাবে
বীজবাছাইওশোধন 
ভারী, পুষ্ট ও রোগবালাইমুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবেবপনের আগে বীজ শোধন করা ভাল হেক্টর প্রতি ২০-২৫ কেজি বা বিঘা প্রতি ২.৫-৩.০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়এক কেজি বীজ শোধনের জন্য ব্যাভিস্টিন তিন গ্রাম ওষুধ এক লিটার পানিতে মিশিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখলে শোধন হয়
বীজবপন 
এক শতক (৪০ বর্গমিটার) পরিমাণ বীজতলায় ৩.৫-৪.০ কেজি বীজ বোনা দরকারএরূপ ১ শতক বীজতলার চারা দিয়ে প্রায় ১ বিঘা জমি রোপণ করা যাবেজুন মাসের শেষ সপ্তাহ হতে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ (আষাঢ়ের ২য় সপ্তাহ হতে শেষ সপ্তাহ) পর্যন্ত বীজ তলায় বীজ বপণ করা যাবে
বীজতলাতৈরী 
দোয়াঁশ ও এঁটেল মাটি বীজতলার জন্য ভালবীজতলার জমি অনুর্বর হলে প্রতি বর্মমিটার জমিতে ২ ‌কেজি হারে অথবা প্রতি শতাংশ জমিতে ২ মণ পঁচা গোবর বা আবর্জনা সার সুন্দরভাবে ছড়িয়ে দিতে হবেএরপর জমিতে ৫-৬ সেন্টিমিটার পানি দিয়ে দু-তিনটি চাষ ও মই দিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন রেখে দিতে হবে এবং পানি ভালভাবে আটকিয়ে রাখতে হবেআগাছা, খড় ইত্যাদি পচে গেলে আবার চাষ ও মই দিয়ে থকথকে কাদাময় জমি তৈরি করতে হবেশেষ জমি তৈরির সময় প্রতি শতকে ১০ গ্রাম ফুরাডান, ১৬০ গ্রাম টিএসপি এবং ২৮০ গ্রাম এমপি প্রয়োগ করতে হবেএরপর ৩ মিটার লম্বা ও ১ মিটার চওড়া বেড তৈরি করতে হবেবেডের উপরের মাটি বাঁশ বা কাঠের চ্যাপ্টা লাঠি দিয়ে সমান করতে হবেদুটি বেডের মাঝখানে ২৫-৩০ সেন্টিমিটার নালা রাখতে হবে যা বীজতলায় পানি দিতে এবং প্রয়োজনে পানি নিস্কাশনে সহায়ক হয়
রোপণেরজন্যজমিতৈরি 
জাতটির চাষাবাদ পদ্ধতি অন্যান্য উফশী রোপা আমন জাতের মতইজমি চাষে হেক্টর প্রতি ৩-৫ টন পরিমাণ জৈব সার (গোবব বা পচা আবর্জনা) দিলে ভাল ফলন পাওয়া যাবে জমি প্রথমবার চাষ দিয়ে ৭-৮ দিন অপেক্ষা করতে হবে যাতে খড়কুটো আবর্জনা ভালভাবে মিশে যায়তারপর শেষ চাষের সময় সবটুকু পটাশ, ফসফেট এবং জিপসাম সার ছিটিয়ে জমি চাষ দিতে হবেজমিতে ২-৩ বার মই দিতে হবে যেন জমি সমান হয়উত্তমরূপে কাদা করে জমি জৈরি করলে অনেক আগাছা দমন হয় এবং অতি সহজে চারা রোপণ করা যায়
চারারোপণ
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ হতে আগস্টের শেষ সপ্তাহ অর্থা শ্রাবণের দ্বিতীয় সপ্তাহ হতে ভাদ্রের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ২৫-৩০ দিনের চারা রোপণ করতে হবেপ্রতি গুছিতে ২-৩টি চারা ২-৩ সেন্টিমিটার গভীরতায় রোপণ করা উত্তমবেশী গভীরতায় চারা রোপণ করলে চারার বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং কুশির সংখ্যাও কমে যায়
সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করতে হবেসারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেন্টিমিটার বা ৮ ইঞ্চি এবং প্রতি সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার বা ৬ ইঞ্চি বজায় রাখতে হবেগুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলে চারার দূরত্ব সঠিক হতে হবেসঠিক দূরত্বে চারা রোপণ করলে প্রত্যেক গাছ সমানভাবে আলো, বাতাস ও সার গ্রহণের সুবিধা পাবে, আগাছা পরিস্কারের জন্য নিড়ানি যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে, আর তা ভাল ফলনে সহায়ক হবে
সারেরমাত্রা
ব্রি ধান৪৯ এর চাষাবাদে সারের মাত্র বিআর১১ ধানের জাতের মতইএজন্য প্রয়োজনীয় সারের মাত্রা নিম্নে উল্লেখ করা হলো 
রোপণকৃতজমিরজন্য
সার
কেজি/হেক্টর
কেজি/বিঘা
গ্রাম/শতাংশ
ইউরিয়া
টিএসপি
এমপি
জিপসাম
দস্তা
১৭১
৮৩
১০০
১০০
১০
২৪
১২
১৪
১৪
৭০০
৩৩০
৪০০
৪০০
৪০

সারপ্রয়োগওব্যবস্থাপনা
সর্বশেষ জমি প্রস্তুতের সময় সবটুকু টিএসপি ও এমপি সার, অর্ধেক জিপসাম এবং অর্ধেক জিংক সালফেট সার একসাথে মিশিয়ে দিতে হবেইউরিয়া সার সমান তিন কিস্তিতে অর্থা রোপণের ১৫ দিনের মধ্যে ১ম কিস্তি, ৩০ দিনের মধ্যে ২০য় কিস্তি এবং ৪৫ দিনের মধ্যে ৩য় কিস্তি প্রয়োগ করতে হবেবাকী অর্ধেক জিপসাম এবং জিংক সালফেট ১ম কিস্তি ইউরিয়ার সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে
সতর্কতা
ইউরিয়া উপরি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ২-৩ সেন্টিমিটার পানি থাকতে হবে অথবা মাটিতে প্রচুর রস থাকতে হবেইউরিয়া প্রয়োগের সাথে সাথে হাত বা উইভার দিয়ে আগাছা পরিস্কার করতে হবে যাতে সার মাটিতে ভালভাবে মিশে যায়ফসলের অবস্থার উপর নির্ভর করে ইউরিয়া সার প্রয়োগের মাত্রার তারতম্য করা যেতে পারে
অন্তর্বর্তীপরিচর্যা
চারা রোপণের পর আগাছা দেখা দিলে নিড়ানি যন্ত্র ব্যবহার করে বা হাতে আগাছা পরিস্কার করতে হবেসাধারণত ধানগাছ যতদিন মাঠে থাকে তার তিন ভাগের প্রথম এক ভাগ (৩০-৪০ দিন) সময় আগাছামুক্ত রাখলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়সাধারণত প্রতি কিস্তি ইউরিয়া উপরিপ্রয়োগের পর পরই আগাছা হাত দিয়ে অথবা নিড়ানি যন্ত্র দিয়ে পরিস্কার করে মাটির ভিতর পুঁতে দিলে জমির আগাছাও যেমন নির্মুল হবে তেমনি আগাছা পচে গিয়ে জৈব সারের কাগ করবেজমিতে ১০-১৫ সেন্টিমিটার পানি রাখতে পারলে আগাছার উপদ্রব কম হবেপ্রয়োজনে আগছা নাশক সাথী ১০ ডব্লিও জি প্রতি বিঘাতে ২০ গ্রাম এবং সানরাইজ ১৫০ ডব্লিও জি প্রতি বিঘাতে ১৪ গ্রাম ব্যবহার করা যেতে পারে
সাধারণত কাইচ থোড় থেকে ফুল আসার সময় এবং পরে দানা গঠন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত না হলে অর্থা খরা দেখা দিলে জমিতে ২-৩টি সেচ প্রয়োগ করলে ধানের ফলন শতকরা ৪০-৫০ ভাগ বাড়েবৃষ্টি-নির্ভর  খরা কবলিত ধানের চেয়ে সম্পূরক সেচযুক্ত ধানের ফলন হেক্টরে প্রায় ১ টন এবং বিঘায় ২-৩ মণ বেশি হয়
বালাইব্যবস্থাপনা
ব্রি ধান৪৯* এ রোগ-বালাই ও পোকার আক্রমণ প্রচলিত জাত বিআর১১ এর চেয়ে অনেক কম হয়প্রাথমিক প্রতিরোধের জন্য ১ম কিস্তি ইউরিয়ার সাথে বিঘা প্রতি ২ কেজি ফুরাডান প্রয়োগ করা যেতে পারেব্রি ধান৪৯ ব্লাষ্ট, ব্যাক্টরিয়াল লিফ ব্লাইট (পাতা ঝলসানো) ও মাজড়া পোকার আক্রমণে মাঝারি সহ্য ক্ষমতা সম্পন্ন এই ধানে খোল পচা রোগ ভারতীয় স্বর্ণা ধানের চেয়ে অনেক কম দেখা যায়তবে নিচু জমিতে অথবা জলাবদ্ধ জমিতে চাষ করলে এই খোল পচা রোগ দেখা দেয়ার আশংকা বেশিপ্রধান প্রধান ক্ষতিকারক পোকা ও রোগবালাই দমন করতে পারলে এই ধান চাষাবাদে শতকরা ২৫ ভাগ ফলন বেশি হতে পারে
জমিতে ডালপালা পুঁতে পারচিং করলে পোকাখেকো পাখি ডালাপালায় বসে মাজরা পোকার আক্রমণ থেকে ফসলকে অনেকটা রক্ষা করবেএ ছাড়া ডায়াজিনন (৬০ তরল) প্রতি হেক্টরে ১.৭০ লিটার স্প্রে করা যেতে পারে অথবা ডায়াজিনন (১৪ দানাদার) ১৩.৫০ কেজি প্রয়োগ করা যেতে পারেপ্রয়োগের মাত্রা ও নিয়ম বোতলের গায়ে লিখা থাকবেজমিতে পাতা পোড়া রোগ দেখা দিলেই ইউরিয়া সারের উপরিপ্রয়োগ বন্ধ করে দিতে হবেজমি থেকে পানি সরিয়ে শুকিয়ে ৭-১০ দিন পর আবার সেচ দিয়ে বিঘা প্রতি ৫ কেজি এমপি সার গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করলে পাতা পোড়া রোগের প্রকোপ কিছুটা কম হবেজমিতে খোল পচা রোগের প্রকোপ খুব বেশী হলে ফলিকুর (টেবুকোনাজল) ১০ মিলি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করা যেতে পারেএছাড়াও কনটাফ (হেক্সাকোনাজল) বা টিল্ট (প্রপিকোনাজল) স্প্রে করা যেতে পারেপ্রথম স্প্রে করার ৭ দিন পর আর একবার স্প্রে করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবেজমিতে লক্ষ্মীর গুবা ফলস স্মাটরোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শিষ বের হওয়ার সাথে সাথেই ১০ গ্রাম ব্যাভিস্টিন ১০ লিটার পানিতে অথবা ১০ মিলি ফলিকুর ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবেপ্রথম স্প্রে করার ৭-১০ দিন পরে আরও দুবার স্প্রে করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে এবং বীজে কোন দাগ থাকবে না
ফসলকাটা, মাড়াইওসংরক্ষণ
শিষের অগ্রভাগের শতকরা ৮০ ভাগ ধানের চাল শক্ত এবং শিষের নিচের অংশে শতকরা ২০ ভাগ ধানের চাল আংশিক শক্ত ও স্বচ্ছ হলে ধান ঠিকমত পেকেছে বেল বিবেচিত হবে সময়ে ফসল কেটে মাঠেই বা উঠানে এনে মাড়াই করতে হবেতাড়াতাড়ি মাড়াই এর জন্য ব্রি উদ্ভাবিত মাড়াই যন্ত্র ব্যবহার করা যায়কাঁচা খলায় ধান মাড়াই করার সময় চাটাই, চট বা পলিথিন বিছিয়ে নেয়া প্রয়োজনমাড়াই করার পর অন্তত ৪-৫ বার রোদে শুকিয়ে নিতে হবে
ধানের বীজ সংরক্ষণ করতে চাইলে ২-৩ শতক জমির শতকরা ৯০-১০০ ভাগ পাকার পর কাটা উচি হবেফসল কাটার আগে জমি থেকে আগাছা এবং সুষ্ঠু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অন্য ধানের জাত সরিয়ে ফেলতে হবেসকল রোগাক্রান্ত গাছও অবসারণ করতে হবেএরপর বীজ হিসেবে ফসল কেটে আলাদাভাবে মাড়াই,ঝাড়াই ও ভালভাবে রোদে শুকাতে হবে যাতে আর্দ্রতা শতকরা ১২ ভাগের নিচে থাকেতারপর পুষ্ট ধান বাছাই করতে কুলা দিয়ে কমপক্ষে দুবার ঝাড়তে হবেপ্লাস্টিক ড্রাম বা কেরোসিনের টিন ভালভাবে পরিস্কার করে রোদে শকানো বীজ ঠান্ডা করে পাত্রে রাখতে হবেপাত্রের মুখ ভালভাবে বন্ধ করতে হবে যাতে বাতাস ঢুকতে না পারেপাত্র মাটির মটকা বা কলসী হলে গায়ে আলকাতরার প্রলেপ দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবেপাত্র মাচায় রাখা ভালমাটিতে রাখলে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন পাত্রের তলা মাটির সংস্পর্শে না আসে,সেজন্য খড় দিয়ে নিচে কুশন তৈরি করে অথবা বস্তার উপর রাখতে হবে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ১ মণ ধানে আনুমানিক ১৫০ গ্রাম নিম বা নিশিন্দা অথবা বিষকাটালির পাতা গুঁড়া করে মিশিয়ে দিয়ে সংরক্ষণ করা যেতে পারে


এক নজরে ছবি আকারে

রোপা আমনে বিআর ১১ এর বিকল্প উফশী জাত ব্রি ধান ৪৯

 

 

December 31, 2013

December 29, 2013

বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ৫০ এর চাষ পদ্ভতি



ব্রি ধান৫০

জাত উদ্ভাবন
ব্রি ধান৩০ এর সাথে ইরি থেকে প্রাপ্ত কৌলিক সারি আইআর ৬৭৬৮৪ বি এর সাথে সংকরায়নের মাধ্যমে ব্রি ধান৫০ এর গবেষণা শুরু হয়পরে সাত বছর ধরে প্রচলিত প্রজনন পদ্ধতিতে মাঠ পর্যায়ে গবেষণা চালিয়ে একটি বিশুদ্ধ অগ্রবর্তী সারি নির্বাচন করা হয় যার কৌলিক সারি নং-বিআর ৪৯০২-১৬-৫-১-১, ইহাকে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বোরো মৌসুমে বিআর২৮ জাতের চাষাবাদ উপযোগী এলাকায় ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক হওয়ায় এই অগ্রবর্তী কৌলিক সারিটিকে উফশীজাত হিসাবে ছাড়করণের জন্য চুড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়জাতীয় বীজ বোর্ড ২০০৮ সালে এই অগ্রগবর্তী কৌলিক সারিটিকে দেশের প্রথম সুগন্ধি এবং রপ্তানিযোগ্য উচ্চ ফলনশীল জাত হিসেবে 'ব্রি ধান৫০' এবং জনপ্রিয় 'বাংলামতি' নামে সারাদশে বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দেয়
বৈশিষ্ট্য
·                                 অঙ্গজ অবস্থায় গাছের আকার বিধান ২৮ এর চেয়ে খাটো, পূর্ণ বয়স্ক গাছের উচ্চতা ৮০-৮৫ সেন্টিমিটার
·                                 এ ধানের জাতের ডিগ পাতা হেলানো এবং লম্বা
·                                 এ ধানের দানা পাকিস্তান ও ভারতের বাসমতি জাতের মত চিকনতবে দানার অগ্রভাগ একটু বাঁকানো
·                                 এ জাতের জীবনকাল ১৫২-১৫৫১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২১ গ্রাম
·                                 উপযুক্ত পরিচর্যায় ব্রি ধান৫০ চাষ করলে ৬.০-৬.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়

সনাক্তকারী গুণ
·                                 ব্রি ধান ৫০ ঢলে পড়া প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন যা ভারত ও পাকিস্তানের বাসমতি জাতে নেই
·                                 এ জাতে পরিপক্ক শিষগুলো ডিগ পাতার উপরে অবস্থান করে বিধায় পুরো ক্ষেত ম্যাটের মত দেখায় যা খুব আকর্ষনীয় হয়
·                                 এর পরিপক্ক কাল ১০০% ফুল আসার ১৫-২০ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হয় যা অন্যান্য উফশী জাতে দেখা যায় না
·                                 ব্রি ধান ৫০ এ সুগন্ধ আছে যা ফুল আসার সময় মাঠে গেলেই অনুভব করা যায়
·                                 এ ধানের ফলন ভারত ও পাকিস্তানের বাসমতির চেয়ে ১ টন বেশি
·                                 এর চালের আকার পাকিস্তান ও ভারতের বাসমতি চালের অনুরূপ এবং এ্যামাইলোজের মাত্রা প্রায় ২৮%

আঞ্চলিক উপযোগিতা
লবণাক্ত এলাকা ছাড়া দেশের প্রায় সকল বোরো চাষাবাদ অঞ্চল বিশেষ করে বিধান ২৮ জাতের চাষাবাদ উপযোগী এলাকায় এবং উত্তরাঞ্চলের চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, নওগাঁ, রাজশাহীসহ কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও যশোর অঞ্চলে জাতটির অধিক ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।  

চাষ উপযোগী জমি
বেলে দোআঁশ, এঁটেল দোআঁশ, উঁচু এবং মাঝারি উঁচু জমি ব্রি ধান ৫০ চাষের জন্য উপযুক্তযে জমিতে ব্রিধান ২৮ এর চাষ হয় সে জমিতে ব্রি ধান ৫০ চাষাবাদ করা যাবে।  

চাষাবাদ পদ্ধতি
জাতটির চাষাবাদ পদ্ধতি ব্রি ধান ২৮ ও ব্রি ধান ২৯ জাতের ধানের চাষাবাদ পদ্ধতির মতইনিম্নে এ জাতটির চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু বিবরণ দেয়া হলো

বীজ বাছাই, শোধন ও জাগ দেওয়া
পুষ্ট বীজ বাছাই করার পর বীজ শোধন করা প্রয়োজনএক কেজি বীজ শোধন করার জন্য ৩ গ্রাম ব্যাভিস্টিন ওষুধ এক লিটার পানিতে মিশিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবেতারপর শোধনকৃত বীজ কাপড় বা চটের ব্যাগে ভরে ঢিলা করে বেঁধে পানিতে ২৪ ঘন্টা ডুবিয়ে রাখতে হবেতারপর চটের ব্যাগ পানি থেকে তুলে কাঠের উপর রেখে পানি ঝরাতে হবেতারপর বাঁশের টুকরি বা ড্রামে শুকানো খড়ের মাঝে বীজের ব্যাগ রেখে তার উপর আবারও শুকানে খড় দিয়ে ভালভাবে চেপে তার উপর ইট বা কাঠ অথবা যে কোন ভারী জিনিষ দিয়ে চাপা দিতে হবে। । এভাবে জাগ দিলে ৪৮ ঘন্টা বা দুই দিনেই ভাল বীজের অংকুর বের হবে এবং কাদাময় বীজতলায় বপনের উপযুক্ত হবে

বীজতলা তৈরি, বীজের হার ও বপন সময়
দোয়াঁশ ও এঁটেল মাটি বীজতলার জন্য ভালবীজতলার জমি অনুর্বর হলে প্রতি বর্মমিটার জমিতে ২ ‌কেজি হারে অথবা প্রতি শতাংশ জমিতে ২ মণ পঁচা গোবর বা আবর্জনা সুন্দরভাবে ছড়িয়ে দিতে হবেএরপর জমিতে ৫-৬ সেন্টিমিটার পানি সেচ দিয়ে দু-তিনটি চাষ ও মই দিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন রেখে দিতে হবে এবং পানি ভালভাবে আটকিয়ে রাখতে হবেআগাছা, খড় ইত্যাদি পচে গেলে আবার চাষ ও মই দিয়ে থকথকে কাদাময় জমি তৈরি করতে হবেশেষ জমি তৈরির সময় প্রতি শতকে ১০ গ্রাম ফুরাডান, ১৬০ গ্রাম টিএসপি এবং ২৮০ গ্রাম এমপি প্রয়োগ করতে হবেএরপর ৩ মিটার লম্বা ও ১ মিটার চওড়া বেড তৈরি করতে হবেবেডের উপরের মাটি বাঁশ বা কাঠের চ্যাপ্টা লাঠি দিয়ে সমান করতে হবেদুটি বেডের মাঝখানে ২৫-৩০ সেন্টিমিটার নালা রাখতে হবে যা বীজতলায় পানি দিতে এবং প্রয়োজনে পানি নিস্কাশনে সহায়ক হয়এক শতক (৪০ বর্গমিটার) পরিমাণ বীজতলায় ৩.৫-৪.০ কেজি বীজ বোনা দরকারএরূপ ১ শতক বীজতলার চারা দিয়ে প্রায় ২ বিঘা জমি রোপণ করা যাবেনভেম্বরের ৫ থেকে ২৫ তারিখের (২০ কার্তিক থেকে ১০ অগ্রহায়ণ) মধ্যে বীজ বপন করতে হবে

বোরো মৌসুমে শীতের জন্য চারার বাড়-বাড়তি ব্যাহত হয়এ কারণে রাতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলে ঠান্ডাজনিত ক্ষতি থেকে চারা রক্ষা পায় এবং চারার বাড়-বাড়তি বৃদ্ধি পায়বীজতলায় চারাগাছ হলদে হয়ে গেলে প্রতি বর্গমিটারে ৭ গ্রাম করে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করলেই চলেইউরিয়া প্রয়োগের পর চারা সবুজ না হলে প্রতি বর্গমিটারে ১০ গ্রাম করে জিপসাম সার উপরি প্রয়োগ করা দরকার

সার প্রয়োগ
ব্রি ধান৫০ এর সারের মাত্রা ব্রি ধান২৮ ও ব্রি ধান২৯ জাতের মতইনিম্নের ছকে রোপণকৃত জমির জন্য বিভিন্ন প্রকারের সারের মাত্রা উল্লেখ করা হলো-

সারের মাত্রা
ব্রি ধান৪৯ এর চাষাবাদে সারের মাত্র বিআর১১ ধানের জাতের মতইএজন্য প্রয়োজনীয় সারের মাত্রা নিম্নে উল্লেখ করা হলো

সার
কেজি/হেক্টর
কেজি/বিঘা
গ্রাম/শতাংশ
ইউরিয়া
টিএসপি
এমপি
জিপসাম
দস্তা
২৫০
১২০
১২০
১০০
১০
৩৩
১৬
১৬
১৩
১০০০
৪৮০
৪৮০
৪০০
৪০

জমি তৈরি ও প্রাথমিক সার প্রয়োগ
জমিতে হেক্টরপ্রতি ৩-৫ টন পরিমাণ জৈব সার ভালভাবে ছিটিয়ে দিতে হবেতারপর ৫-১০ সেন্টিমিটার পানি দিয়ে দুটি চাষ আড়াআড়িভাবে দিয়ে ৭-৮ দিন পর ১০-১৫ সেন্টিমিটার গভীর করে আবার আড়াআড়িভাবে দুটি চাষ ও দুটি মই দিয়ে ৩-৪ দিন অপেক্ষা করতে হবেতারপর শেষ চাষের সময় সবটুকু টিএসপি, সবটুকু এমপি, অর্ধেক জিপসাম এবং অর্ধেক দস্তা সার ছিটিয়ে দিতে হবেতারপর ২-৩ বার মই দিতে হবে যেন জমি সমান হয় এবং সমস্ত জমিতে একই গভীরতায় পানি থাকেবাকী অর্ধেক জিপসাম এবং জিংক সালফেট প্রথম কিস্তি ইউরিয়ার সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে

ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ
ইউরিয়া সারের কার্যকারিতা জমিতে কম সময় থাকে বিধায় এ সার সমান তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবেপ্রথম কিস্তি রোপণের ১০-১৫ দিনের মধ্যে এবং দ্বিতীয় কিস্তি ২৫-৩০ দিনের মধ্যে অর্থা গোছায় ৪-৫টি কুশি অবস্থায় দিতে হবেতৃতীয় কিস্তি কাইচথোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে অর্থা রোপণের ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে

সতর্কতা
ইউরিয়া উপরি প্রয়োগের সময় ক্ষেতে ২-৩ সেন্টিমিটার পানি থাকতে হবে অথবা মাটিতে প্রচুর রস থাকতে হবেইউরিয়া প্রয়োগের সাথে সাথে হাত বা উইডার দিয়ে আগাছা পরিস্কার করতে হবে যাতে সার মাটিতে ভালভাবে মিশে যায়ফসলের অবস্থার উপর নির্ভর করে ইউরিয়া সার প্রয়োগের মাত্রা কম বেশি করা যেতে পারে

চারা রোপণ
অগ্রহায়ণের ২৫ তারিখ থেকে পৌষের ১৫ তারিখের মধ্যে অর্থা ১০-৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৫-৪০ দিনের চারা রোপণ করতে হবেপ্রতি গুছিতে ৩টি চারা ২-৩ সেন্টিমিটার গভীরতায় রোপণ করা উত্তমবেশি গভীরতায় চারা রোপণ করলে চারার বৃদ্ধি ব্যহত হয় এবং কুশির সংখ্যাও কমে যায়সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করতে হবেসারি থেকে সারির দূরত্ব ২৫ সেন্টিমিটার অর্থা ১০ ইঞ্চি এবং প্রতি সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার অর্থ ৬ ইঞ্চি বজায় রাখতে হবেগুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলে চারার দূরত্ব সঠিক হতে হবেসঠিক দূরত্বে চারা রোপণ করা হলে প্রত্যেক গাছ সমানভাবে আলো, বাতাস ও সার গ্রহণের সুবিধা পাবে আর তা ভাল ফলনে সহায়ক হবে

অন্তর্বর্তী পরিচর্যা
চারা রোপণের পর আগাছা দেখা দিলে নিড়ানি যন্ত্র ব্যবহার করে বা হাতে আগাছা পরিস্কার করতে হবেসাধারণত প্রতি কিস্তি ইউরিয়া উপরিপ্রয়োগের পর পরই আগাছা হাত দিয়ে অথবা নিড়ানি যন্ত্র দিয়ে পরিস্কার করে মাটির ভিতর পুঁতে দিলে জমির আগাছা যেমন নির্মুল হবে তেমনি আগাছা পচে গিয়ে জৈব সারের কাগ করবেজমিতে ১০-১৫ সেন্টিমিটার পানি রাখতে পারলে আগাছার উপদ্রব কম হবেপ্রয়োজনে আগছা নাশক সাথী ১০ ডব্লিও জি প্রতি বিঘাতে ২০ গ্রাম এবং সানরাইজ ১৫০ ডব্লিও জি প্রতি বিঘাতে ১৪ গ্রাম ব্যবহার করা যেতে পারে

পোকা ও রোগ দমন
প্রাথমিক প্রতিরোধের জন্য প্রথম কিস্তি ইউরিয়ার সাথে বিঘ প্রতি ২ কেজি ফুরাডান ৫জি প্রয়োগ করা যেতে পারেব্রি ধান৫০, ব্লাস্ট, ব্যাক্টরিয়াল লিফ ব্লাইট (পাতা ঝলসানো) ও মাজড়া পোকার আক্রমণ মাঝারি সহ্য ক্ষমতা সম্পন্নপ্রধান ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমন করতে পারলে এই ধান চাষাবাদে শতকরা ২৫ ভাগ ফলন বেশি হতে পারেপোকার আক্রমণ বেশি হলে প্রয়োজনে কীটনাশক যেমন- ফুরাডান/ভিটাফুরান ৫জি, মার্শাল ২০ ইসি, সানটাপ ৫০ এসপি, ডায়াজিনন ৬০ ইসি ইত্যাদি অনুমোদিত হারে স্প্রে করে দমন করা যেতে পারেধানে সিথ ব্লাইট / খোল পোড়া, ব্লাস্ট ও পাতা পোড়া রোগ হতে পারেখোলপোড়া রোগ দমনের জন্য ফলিকুর (টেবুকোনাজল) ১০ মিলি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করা যেতে পারেএছাড়াও কনটাফ (হেক্সাকোনাজল) বা টিল্ট (প্রপিকোনাজল) স্প্রে করা যেতে পারেপাতা পোড়া রোগ দমনের জন্য প্রতি বিঘায় ৫ কেজি এম.পি সার প্রয়োগ করা যেতে পারেব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতি হেক্টরে ৮০০ মিলি লিটার হিনোসান অথবা ২.৫ কেজি হোমাই বা টপসিন এম অথবা ৪০০ গ্রাম টুপার প্রয়োগ করতে হবে

ফসল কাটা, মাড়াই ও সংরক্ষণ
শিষের অগ্রভাগের শতকরা ৮০ ভাগ ধানের চাল শক্ত ও স্বচ্ছ এবং শিষের নিচের অংশে শতকরা ২০ ভাগ ধানের চাল আংশিক শক্ত ও স্বচ্ছ হলে ধান ঠিকমত পেকেছে বেল বিবেচিত হবেএ সময়ে ফসল কেটে মাঠেই বা উঠানে এনে মাড়াই করতে হবেকাঁচা খলায় ধান মাড়াই করার সময় চাটাই, চট বা পলিথিন বিছিয়ে নেয়া প্রয়োজন

ফসল কাটার আগে জমি থেকে আগাছা এবং সুষ্ঠু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অন্য ধানের জাত সরিয়ে ফেলতে হবেসকল রোগাক্রান্ত গাছও অবসারণ করতে হবেএরপর বীজ হিসেবে ফসল কেটে আলাদাভাবে মাড়াই, ঝাড়াই ও ভালভাবে রোদে শুকাতে হবে যাতে আর্দ্রতা শতকরা ১২ ভাগের নিচে থাকেতারপর পুষ্ট ধান বাছাই করতে কুলা দিয়ে কমপক্ষে দু'বার ঝাড়তে হবেপ্লাস্টিক ড্রাম বা কেরোসিনের টিন ভালভাবে পরিস্কার করে শুকিয়ে রোদে শুকানো বীজ ঠান্ডা করে পাত্রে রাখতে হবেপাত্রের মুখ ভালভাবে বন্ধ করতে হবে যাতে বাতাস ঢুকতে না পারেবীজ পাত্র মাটির মটকা বা কলসী হলে গায়ে আলকাতরার প্রলেপ দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবেপোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ১ মণ ধানে আনুমানিক ১৫০ গ্রাম নিম বা নিশিন্দা অথবা বিষকাটালির পাতা গুঁড়া করে মিশিয়ে দিয়ে সংরক্ষণ করা যেতে পারে

মিলিং পদ্ধতি
ব্রি ধান৫০ লম্বাকৃতি হওয়ায় প্রচলিত মিলে মিলিং করলে চাল ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা থাকেএই ধান আতপ মিল করতে হলে 'রাবার রোল হলার' যুক্ত অটো মিলে মাড়াই করতে হবেএতে ধানের সুগন্ধ বজায় থাকবেতাছাড়া অর্ধেক সিদ্ধ করা ধান 'রাবার রোল হলার' যুক্ত অটো মিলে মাড়াই করলে শতকরা ৭০-৮০টি আস্ত চাল পাওয়া যাবে এবং প্রাপ্ত চাল দেখতে ধবধবে সাদা হবেস্থানীয় অথবা প্রচলিত মিলে মাড়াই করতে হলে ১২ ঘন্টা ধান ভিজিয়ে রেখে পরে সম্পূর্ণভাবে সদ্ধ করে ভালভাবে শুকিয়ে মিলিং করতে হবেএই পদ্ধতি অবলম্বন করলে বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই ব্রি ধান৫০ মিলিং করা সম্ভব